খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্প

খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির মাধ্যমেই সংকট সমাধান করতে চান তিনি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং আসন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান যে তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না, বরং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে যুদ্ধ হলে তা ইরানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পর এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়গুলোকে যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি, তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমোজ প্রণালির ওপর চলা নিষেধাজ্ঞা দূর করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল। সূত্র: গালফ নিউজ। গাজা ‘নিরস্ত্রীকরণ’ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যা বলল সৌদি Advertisement Icon আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম 4 Shares facebook sharing button twitter sharing button whatsapp sharing button messenger sharing button print sharing button copy sharing button গাজা ‘নিরস্ত্রীকরণ’ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যা বলল সৌদি সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত আরও পড়ুন মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে বড় রেল প্রকল্প নিচ্ছে ভারত নিউজউইকের প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পকে কেন চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব? হামাসের হামলায় নিহত প্রেমিকার কবরে ইসরাইলি তরুণের কাণ্ড ফলো করুন যুগান্তর হোয়াটসঅ্যাপ যুগান্তর মেসেঞ্জার সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজায় হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। সেইসঙ্গে এই এই চুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক’ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে রিয়াদ। এক বিবৃতিতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও এই চুক্তি সম্পন্ন করতে তার অঙ্গীকারের প্রশংসা করে। পাশাপাশি মিসর, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, পিস কাউন্সিল এবং এ উদ্যোগে যুক্ত অন্যান্য অংশীদারদের প্রচেষ্টার জন্যও ধন্যবাদ জানায়। আরও পড়ুন অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হামাস, প্রতিক্রিয়াহীন ইসরাইল অস্ত্র ত্যাগে সম্মত হামাস, প্রতিক্রিয়াহীন ইসরাইল সৌদি আরব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৮০৩–এর আওতায় অনুমোদিত সমন্বিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটি বলেছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চুক্তির সব ধাপ বাস্তবায়ন করতে হবে। বিবৃতিতে গাজা থেকে ইসরাইলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আবারও গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ খুঁজে না পেলে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি অন্তত একটি বড় ভুল এড়িয়েছেন—যুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাননি, যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। Advertisement সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইতিহাসে দেখা গেছে ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিজেদের মর্যাদা রক্ষা বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজতে গিয়ে সংঘাত আরও বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলেছিল। বর্তমানে ট্রাম্পও একই ধরনের এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ইরান আত্মসমর্পণ বা যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে আলোচনায় রাজি না হওয়ায় তার সামনে তিনটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, বর্তমানের মতো বিমান হামলা, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পাল্টাপাল্টি সামুদ্রিক অবরোধ চালিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মেনে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, হামলা আরও জোরদার করে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা বা সীমিত পরিসরে স্থলবাহিনী মোতায়েন করা। আর তৃতীয় পথ হলো, বড় লক্ষ্য অর্জন না করেই যুদ্ধ থেকে সরে আসা। বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি পথই রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে পড়েছেন, যেখানে জয় কিংবা পরাজয়—দুটিরই মূল্য অনেক বেশি। সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে নতুন ও ব্যতিক্রমী কৌশলের খোঁজে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে নতুন ধারণা চেয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছে। এটিও ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান কৌশল নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরেও পুনর্বিবেচনা চলছে। এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বলে সপ্তাহান্তে বড় ধরনের হামলা স্থগিত করার পর সোমবার আবারও কঠোর অবস্থান নেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করেন। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভালো একটি চুক্তিতে সই করার জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, তা না হলে ইরানকে ‘নেতৃত্বশূন্য’ বা ‘ডিক্যাপিটেশন’-এর মুখোমুখি হতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি আবারও সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে, তাহলে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প আরও সীমিত হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে। বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নৌবাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়বে। একইভাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ বা অন্যান্য এলাকায় স্থল অভিযান চালানো হলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন (বামে) ও জর্জ ডব্লিউ. বুশ। ছবি: সংগৃহীত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের ভিয়েতনাম যুদ্ধ, জর্জ ডব্লিউ. বুশের ইরাক অভিযান এবং বারাক ওবামার আফগানিস্তানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের উদাহরণ তুলে ধরে সিএনএন বলেছে, বিমান হামলা থেকে স্থলযুদ্ধে রূপ নেওয়ার পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য অনেক বেড়েছে। বিদেশের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেই ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা এমন যুদ্ধ চাই না, যার কোনো শেষ নেই এবং যা আমরা কখনো জিততে পারি না।’ তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনিও আফগানিস্তানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে সেই সিদ্ধান্তকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন এবং এর দায় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপান। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ইরান যুদ্ধ আর কোনো পূর্বসূরির নয়, এটি সম্পূর্ণ ট্রাম্পের নিজের যুদ্ধ। এর পরিণতিই নির্ধারণ করতে পারে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং হোয়াইট হাউসের বাইরে আরও বহু মানুষের ভবিষ্যৎ। আরামকো প্রধানের দাবি হরমুজ সংকটে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহে ধাক্কাহরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিন নাসের। তার দাবি, সংকট শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক বাজারে ২৬০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। খবর আল আরাবিয়ার। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর আল আরাবিয়া বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।আমিন নাসের বলেন, এ সংকটের প্রভাব শুধু বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি জানান, অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তবে আরামকো তাদের বিস্তৃত অবকাঠামো ও বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। আরব উপসাগর ও লোহিত সাগরের বাইরেও কোম্পানিটির একাধিক রপ্তানি রুট ও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি। নাসের বলেন, উচ্চমাত্রার প্রস্তুতি এবং দক্ষ জনবল থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকেও আরামকো শক্তিশালী পরিচালনাগত সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। এ সক্ষমতার প্রতিফলন কোম্পানির আর্থিক ফলাফলেও দেখা গেছে, যদিও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে ব্যতিক্রমী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তার ভাষ্য, কার্যকর উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে বৈশ্বিক বাজারে সংকটের প্রভাব কমাতে আরামকো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এদিকে মঙ্গলবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরামকোর নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল পরিবহন করতে হলেও অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি ও রাসায়নিক পণ্যের উচ্চমূল্যের সুবিধা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।৩০ জুন শেষ হওয়া তিন মাসে আরামকোর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। ইরানকে ‘শায়েস্তা’ করতে নতুন কৌশল খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসনইরানকে নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ লক্ষ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা ই-মেইলে লিখেছেন, ‘ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আমরা নতুন, সৃজনশীল ও প্রচলিত ধারার বাইরে চিন্তাভাবনা খুঁজছি।’ তবে সেন্টকমের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য নতুন নয়। তার ভাষায়, ‘উদ্ভাবনী উপায়ে চিন্তা ও কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে সেন্টকমের।’তবে ওই ই-মেইল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পেন্টাগন শুরুতে মনে করেছিল সংঘাত এত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও ট্রাম্পের সমর্থকদের ওপরও পড়েছে।এদিকে, রোববার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি উত্তেজনা কমাতে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম হয়। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আইইরান যুদ্ধ বিস্তৃত করতে চায় না, তবে সীমান্ত রক্ষায় প্রস্তুত: পেজেশকিয়ানইরান নিজের সীমান্ত রক্ষা করবে, তবে যুদ্ধ আর বিস্তৃত করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শত্রুর হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ না থাকে, অনুপ্রবেশের পথ খোলা না থাকে এবং আমাদের বিভক্ত বা দুর্বল করার কোনো উপায় না পায়।’এর আগে, সোমবার (৪ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান।ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (৩ আগস্ট) স্পষ্টভাবে জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তেহরানের এই বক্তব্যের বিপরীতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনই কথা বলছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে সই করার এটাই শেষ সুযোগ। শিরশ্ছেদের আগে আমি তাদের সম্ভাব্য সবশেষ সুযোগ দিতে চাই।’তিন ছেলে হারানোর পর জন্মেছিল জায়েদ, তাকেও বাঁচতে দিল না ইসরাইলফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি ছোট ঘরে জানালার পাশে ঘুমিয়ে ছিল ১৫ মাসের শিশু জায়েদ নোফাল। প্রচণ্ড গরমের কারণে তার গায়ে কোনো কম্বল ছিল না। জানালা দিয়ে আসা সামান্য বাতাসেই তাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন মা। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ ইসরাইলি বিমান হামলায় তাদের বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে মারা যায় ছোট্ট জায়েদ। কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার ৩৮ বছর বয়সি মা ফাতিমা নোফাল। রক্ত ও ধুলায় ঢাকা শরীর নিয়ে তিনি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। চারপাশে মানুষের চিৎকার, আর তার সামনে জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন—ইসরাইলি হামলায় এ নিয়ে তিনি হারালেন তার চতুর্থ ছেলেকে। এর আগে ২০২৩ সালে আরেক হামলায় তার তিন ছেলে নিহত হয়েছিল। প্রতিবেশীরা দ্রুত বাড়ির ধ্বংসস্তূপে ছুটে আসেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বাড়িটি আংশিকভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘরও আবার ধ্বংস হয়ে গেল। আরও পড়ুন ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পরই গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১৯ ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণার পরই গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১৯ ফাতিমা বলেন, ‘এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কী ঘটেছে। আমি এখনও গভীর শোক আর হতবাক অবস্থার মধ্যে আছি।’ তিনি বলেন, ‘হামলার কয়েক মিনিট আগে আমার ঘুম ভেঙেছিল। প্রচণ্ড গরমের কারণে আমি ঘরের অন্য পাশে গিয়ে শুয়েছিলাম। আর জায়েদকে জানালার পাশে রেখে দিয়েছিলাম, যেন একটু বাতাস পেয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।’ হামলায় তিনি নিজেও আহত হন। কিন্তু নিজের চিকিৎসার কথা না ভেবে প্রতিবেশীদের অনুরোধ করেন ধ্বংসস্তূপের নিচে তার ছেলেকে খুঁজে বের করতে। তিনি বলেন, ‘ঘরটা পুরো ইট-পাথরে ভরে গিয়েছিল। সবাই মিলে একের পর এক ধ্বংসাবশেষ সরাতে শুরু করে।’ একসময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জায়েদকে বের করা হয়। একটি পাতলা কাপড়ে জড়িয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। ২০২৩ সালে হারিয়েছিলেন তিন ছেলেকে জায়েদের মৃত্যু ফাতিমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবরের সেই বিভীষিকাময় দিনে। সেদিন ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয় তার তিন ছেলে—১৬ বছর বয়সি আমিন, ১১ বছরের হামজা এবং মাত্র ২২ দিনের নবজাতক আহমেদ। সেই হামলায় বেঁচে যান শুধু ফাতিমা ও তার দুই মেয়ে। তারাও আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধের শুরুতে সীমান্তের কাছে আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবির ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবার নিয়ে আল-জাওয়াইদা উপকূলীয় এলাকার আল-সাওয়ারহায় চলে গিয়েছিলেন তিনি।
ফাতিমা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম সেখানে গেলে নিরাপদ থাকব। কিন্তু কখনও কল্পনাও করিনি, যে জায়গায় নিরাপত্তার জন্য গিয়েছিলাম, সেখানেই আমার তিন সন্তান এবং আমার স্বামীর পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে হারাতে হবে।’ সেই হামলায় তাদের আশ্রয়স্থলও ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে বারবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে পরিবারটিকে। অন্ধকারে একটুকরো আলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজার প্রায় সব মানুষের মতোই ফাতিমার জীবন কেটেছে অনিশ্চয়তা, বাস্তুচ্যুতি আর স্বজন হারানোর বেদনায়। তিন ছেলেকে হারানোর প্রায় ১০ মাস পর তিনি জানতে পারেন, আবার মা হতে চলেছেন। পরে জানতে পারেন, এবারও একটি ছেলে সন্তান হবে। সেই খবর তার জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল যুদ্ধের মধ্যেই জন্ম হয় জায়েদের। ফাতিমার বিশ্বাস, হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের শূন্যতা পূরণ করতেই যেন পৃথিবীতে এসেছে সে। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ছিল জায়েদের জন্ম। তার আগমনে পুরো পরিবারে আনন্দ ফিরে এসেছিল। দীর্ঘদিনের কান্না আর কষ্টের মধ্যে সে ছিল এক অলৌকিক আশীর্বাদ।’ আত্মীয়রা চেয়েছিলেন, মৃত তিন ছেলের একজনের নামে তার নাম রাখা হোক। কিন্তু ফাতিমা রাজি হননি। ‘আমি চেয়েছিলাম, ওর নিজের একটি নাম থাকুক, নিজের একটি জীবন থাকুক।’ আরও পড়ুন লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস বোমা ফেলেছে ইসরাইল লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস বোমা ফেলেছে ইসরাইল ধীরে ধীরে জায়েদ হয়ে ওঠে পুরো পরিবারের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে তার দুই বোন তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে চাইত না। ফাতিমা বলেন, ‘টিকা দিতে বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে তার দুই বোন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করত। কয়েক ঘণ্টার জন্যও তারা তাকে ছাড়া থাকতে পারত না।’ হামলায় ফাতিমার দুই পায়ে দগ্ধ হয়। বড় মেয়ে বারার সামান্য আঘাত লাগে। ছোট মেয়ে লিনার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং সে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাতিমা বলেন, ‘আমি যখন লিনাকে দেখতে গেলাম, প্রথমেই সে জায়েদের কথা জিজ্ঞেস করল। কিন্তু আমি তাকে সত্যটা বলতে পারিনি। শুধু বলেছি, জায়েদ ভালো আছে, তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।’ তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কীভাবে তাকে সত্যটা জানাব, আমি জানি না।’ সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এই ভেবে যে, জায়েদ কখনও স্বাভাবিক শৈশব পায়নি। ফাতিমা বলেন, ‘যেদিন সে মারা যায়, সেদিন বিকেলে সে খুব অস্থির ছিল। বাইরে যেতে চাইছিল। আমি তার বোনদের বলেছিলাম, ইশ! যদি তাকে একটু বাইরে নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু শিশুদের খেলার মতো কোনো জায়গাই আর অবশিষ্ট নেই।’ ‘সে সারাটা জীবন ঘরের ভেতরেই কাটিয়েছে। তার চাচাতো ভাই-বোনেরাও ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে। তাই তার খেলাধুলা করার মতো কোনো সঙ্গীও ছিল না।’ তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

The science-policy imperative in the final stretch to 2030 and beyond

Any support whether through donating, sharing our campaign, or keeping us in your prayers can make a real difference for us during this difficult time. If you are able to help or share, here is our campaign link: https://gogetfunding.com/from-death-to-life-evacuate-my-family-from-gaza/

Israeli Airstrike Destroys Al-Muttaqin Mosque Near Gaza Displacement Camp