ইসরাইলকে কড়া বার্তা ‘সম্ভাব্য’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের
ইসরাইলকে কড়া বার্তা ‘সম্ভাব্য’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের
যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দেশটির সরকারের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, গাজা যুদ্ধের শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুত ছিল না।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছি ঠিকই, কিন্তু সত্য হলো—যুক্তরাজ্য যুদ্ধবিরতির দাবি তুলতে অনেক দেরি করেছে। এখন আমাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে হবে।’
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করলে, সে সময় স্টারমার যুদ্ধবিরতির দাবি না তুলে কেবল মানবিক বিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও বার্নহ্যামসহ লেবার পার্টির অনেক নেতা তখনই পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিলেন।
পরে স্টারমারও যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নেন এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তার সরকার উগ্র ডানপন্থি কয়েকজন ইসরাইলি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
https://www.jugantor.com/international/1125004
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি ব্রিটিশ এমপিদের
ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরাইলের নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচার-বিষয়ক মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের
স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৭১ জন ব্রিটিশ এমপি ও লর্ডস সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারকে লেখা একটি চিঠিতে এ দাবি জানান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগত ও নথিভুক্ত নির্যাতনের দায় ইসরাইল সরকারের, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও রয়েছেন।
লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে লেখা ওই চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি ও ৭ জন লর্ডস সদস্যসহ বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতারা স্বাক্ষর করেন।
আইনপ্রণেতারা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানান, যেন তিনি নেতানিয়াহু, উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ইয়্যারিভ লেভিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ‘দায়মুক্তির অবসান ঘটাতে’ সহায়তা করেন।
চিঠিতে বলা হয়, গত বছর ইসরাইলের ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা ‘স্বাগত’ হলেও তা ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের আচরণে খুব কমই পরিবর্তন এনেছে। বরং এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং ‘প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে জাতিসংঘের ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, জীবনধারণের উপকরণ ধ্বংস এবং বঞ্চনার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার অংশ হিসেবে নির্যাতন একটি নিয়মিত পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে।
https://www.jugantor.com/international/1123674


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন