গাজা যুদ্ধ এবং লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা তুলে ধরেছ
ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প। ত ট্র্যাজেডি’। সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যাকুটো শহরের সমুদ্রতীরবর্তী একটি বড় হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
কাতিয়া লা মার শহর থেকেও বহু ভবন ধসে পড়া এবং উঁচু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ
লা গুয়াইরায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা রাজধানী কারাকাসের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, গুরুতর অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময় যাত্রীরা আতঙ্কে দৌড়াচ্ছেন। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ, ধুলাবালি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ছাদের চিত্রও দেখা গেছে।রাজধানী কারাকাসের বারুতা পৌর এলাকায় দুটি ভবন ধসে পড়ে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র।
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা জানান, রাজধানীতে অন্তত চারটি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি সান বেরনার্দিনো এলাকায়, একটি পিন্টো সালিনাসে এবং আরেকটি এল প্যারাইসোতে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার অনুরোধের কারণে চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়নি। খবর তাসের
বুধবার (২৪ জুন) এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগান যুদ্ধের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তিনি এতে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য নেতা ছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, এরদোগান ইসরাইলের বড় সমর্থক নন। তিনি চাইলে ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। আমি তাকে যুদ্ধের বাইরে থাকতে বলেছিলাম এবং তিনি তা-ই করেছেন।ট্রাম্প বলেন, এরদোগান ইসরাইলের বড় সমর্থক নন। তিনি চাইলে ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। আমি তাকে যুদ্ধের বাইরে থাকতে বলেছিলাম এবং তিনি তা-ই করেছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি হওয়ায় বেইজিং চাইলে সংঘাতে জড়াতে পারত। তবে তার অনুরোধের পর শি জিনপিংও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট শিকে অনুরোধ করেছিলাম যেন তিনি এ সংঘাতে না জড়ান। তিনি আমার অনুরোধ রেখেছেন।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির সম্পর্কেও একই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘পুতিনও যুদ্ধের বাইরে থেকেছেন। যদিও তার মনোযোগ দেওয়ার মতো আরও অনেক বিষয় রয়েছে, তারপরও তিনি সরাসরি জড়াননি।’
ট্রাম্পের মতে, বিশ্বের প্রভাবশালী এই তিন নেতা সংঘাত থেকে দূরে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা সবাই যুদ্ধের বাইরে থেকেছেন। সত্যি বলতে, এটি ছিল বেশ অবিশ্বাস্য একটি বিষয়।’পশ্চিম এশিয়ায় বদলাচ্ছে ভূরাজনীতির সমীকরণ, দুর্বল হচ্ছে সুন্নি-শিয়া বিভাজনের প্রভাবপশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী সুন্নি-শিয়া বিভাজন ক্রমশ গুরুত্ব হারাচ্ছে এবং এর পরিবর্তে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ ও বৈশ্বিক শক্তির ভূমিকা নতুন বাস্তবতা হিসেবে সামনে আসছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা ছাতা’র কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ও বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলতে ইসরাইল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন, সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের সংঘাতকে বহু বছর ধরে মূলত সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সেই ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ইরাক ও ওমানও নেপথ্যে ভূমিকা রাখে।
তাদের মতে, গাজা যুদ্ধ এবং লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এর ফলে সৌদি আরব, ইরান, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের মতো দেশগুলো নিজেদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে।
এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সৌদি মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ইসলামাবাদ একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থান সৌদি আরবের বৃহত্তর কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি ও পাকিস্তানি নেতাদের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় সেই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। উপসাগরীয় দেশগুলো কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাতের পর অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য আঞ্চলিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির বৃহৎ সামরিক বাহিনী, সৌদি আরব ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং পারমাণবিক সক্ষমতা তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও, আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সেই নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
সমালোচকদের মতে, ইসরায়ইল ভেবেছিল তাদের পদক্ষেপ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াবে। কিন্ত তা উলটো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে নতুনভাবে একত্রিত হওয়ার প্রেরণা দিয়েছে। এতে সুন্নি-শিয়া বিভাজনের চেয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও ইসরাইলের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই অনিচ্ছাকৃতভাবে নতুন এক আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসের পথ খুলে দিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটরযুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করায় ন্যাটোর তীব্র সমালোচনায় তেহরানইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিবের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের ‘সহযোগী’ হওয়ার অভিযোগ তোলে ইরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মিত্র দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যথেষ্ট সমর্থন না দেওয়ার জন্য সমালোচনা করেন।
এর জবাবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শত শত যুদ্ধবিমান ইরানে পরিচালিত ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে অংশ নেয়।
রুট জানান, একটির পর একটি মিত্র দেশ তাদের ঘাঁটি এপিক ফিউরি অভিযানের জন্য উন্মুক্ত করেছে। ইতালিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি থেকে ৫০০টি যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে এই অভিযানে সহায়তা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে রোমানিয়া তাদের বিমানবন্দরগুলোতে ট্যাংকার সুবিধা ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক ফ্লাইট সীমিত করেছিল।
ন্যাটোর এ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধে’ ন্যাটোর সক্রিয় সম্পৃক্ততার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই লেখেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যতামূলক নীতিমালা এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তবে ইতালি দ্রুত রুটের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ন্যাটো প্রধানের মন্তব্য অনুমোদিত ফ্লাইটের ধরন সম্পর্কে ‘সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বার্তা’ দিয়েছে।
ইতালির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় তারা কেবল ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় ‘কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তাসংক্রান্ত’ মার্কিন ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছিল। সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউনhttps://www.jugantor.com/international/1118552
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন